2_banners_AMK

আধুনিক প্রযুক্তি হস্তান্তর ও যৌথ উত্পাদনেই ভবিষ্যত

Friday, 16 August 2013 16:19

রাশিয়া-ভারতের যোগাযোগের ভবিষ্যত উন্নতি সম্ভব শুধু আধুনিক প্রযুক্তি ও যৌথ উত্পাদনের মধ্যে দিয়েই – কোন শয়তানি সমেত টেন্ডারে নয়, - এই বিষয়ে বিশ্বাস করেন ভারতে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার কাদাকিন. ভারতের স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে তিনি “রেডিও রাশিয়ার” প্রতিনিধি সাংবাদিক নাতালিয়া বেন্যুখের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন.

বিগত কয়েক দশক ধরেই আপনার কাজকর্ম একজন মুখ্য রুশ কূটনীতিবিদ হিসাবে ভারতের সঙ্গে জড়িত রয়েছে, আমাদের দেশের সঙ্গে ভারতের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়েই. তার বিশেষত্বটা কি? এই সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ও সংজ্ঞাবহ দিক গুলিতে স্বল্প ক্ষণের জন্য হলেও আলাদা করে বিরতি দিয়ে উল্লেখ করুন, আপনার অংশগ্রহণে ঘটা মনে রাখার মতো ঘটনাগুলোকে নিয়ে একটু আমাদের বলুন.

রাষ্ট্রদূত কাদাকিন বলেছেন:

প্রথমতঃ, আমি চাইব আমাদের এই সুন্দর, সনাতন ও আমাদের প্রতি খুবই মিত্রসুলভ দেশের ১২০ কোটি বন্ধুকে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে অভিনন্দন জানাতে – ভারতীয়দের জন্য এটা খুবই স্মরণীয়, পবিত্র দিন. আমার কূটনৈতিক কাজের জীবনে সবচেয়ে মনে রাখার মতো ঘটনার মধ্যে, আমার প্রথমবার রাষ্ট্রদূত থাকার সময়ে – ভারতের সঙ্গে স্ট্র্যাটেজিক সহযোগীতা ঘোষণা, যা রাষ্ট্রপতি পুতিন ২০০০ সালে স্বাক্ষর করেছেন. বর্তমানে এই ভিত্তিমূলক ও নীতি নির্ধারক দলিল আমাদের সম্পর্ককে নির্দিষ্ট করে দিয়েছে. আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ব্যবহারে এই দলিল এক গুরুত্বপূর্ণ নজীর সৃষ্টি করেছে, এটা – দুটি দেশের কূটনৈতিক আলাপের জন্য নতুন আকার – স্ট্র্যাটেজিক সহযোগীতা, অর্থাত্ একে অপরের প্রতি বহু দশকের জন্য আগে থেকেই ভরসা করতে পারা. ঠিক দশ বছর পরে এই স্ট্র্যাটেজিক সহযোগীতা দুই দেশের পক্ষ থেকে বর্ণনা করা হয়েছিল বিশেষ অধিকার যুক্ত দুই দেশের মধ্যে স্ট্র্যাটেজিক সহযোগীতা বলে. এই ঘটনাগুলোতে আমি সরাসরি ভাবে অংশ নিয়েছি. আমাদের সম্পর্ক – বর্ণনা করা যেতে পারে সবচেয়ে বেশী খোলাখুলি ভাবে, বিশ্বাসযোগ্য ভাবে আর, এটাও ঠিক যে, সত্যিকারের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও মৈত্রী হিসাবে.

আমাদের দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগের বিষয়ে সমস্ত অগ্রগতি স্বত্ত্বেও উল্লেখ না করে পারা যায় না যে, কিছু দিকে বিগত সময়ে নির্দিষ্ট কিছু সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে. ততটা দ্রুত গতিতে পারস্পরিক বাণিজ্য বৃদ্ধি হচ্ছে না, ব্যক্তিগত মালিকানার ব্যবসার ক্ষেত্রেও আশানুরূপ বিনিয়োগ বাড়ছে না. ভারতে নির্দিষ্ট সমস্যার মুখে পড়েছে “রসঅ্যাটম”, আএফকে “সিস্টেমা”, কামাজ. প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগীতার বিষয়েও পরিস্থিতির বদল হয়েছে, এই কিছুদিন আগেও যা ভারত-রুশ যোগাযোগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল. এটা কি নির্দিষ্ট কোন প্রবণতা অথবা উন্নতির সমস্যাকে প্রতিফলিত করে?

রাষ্ট্রদূত কাদাকিন বলেছেন:

আমি মনে করি যে, এখানে নৈরাশ্যবাদী মূল্যায়ণ করা চলতে পারে না, ওঃ, আমাদের সামরিক প্রযুক্তি সহযোগীতাকে কবর দেওয়া এখনও খুবই তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে! এটা ঠিকই যে, যারা নির্দিষ্ট কাজ নিয়ে জড়িত, তাদের কখনও সমস্যার সৃষ্টি হয়েই থাকে, কিন্তু এটা – দাঁত ওঠার সময়ের সমস্যার মতই. এই সমস্ত মিথ্যা ভবিষ্যত দ্রষ্টারা তিন সমুদ্রের পার থেকে সব রকম ভাবেই চেষ্টা করে চলেছে “মধু ভাণ্ডে আলকাতরা ফেলতে”, আমাদের একটা বা দুটো টেন্ডারে পরাজয়কে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে ব্যাখ্যা করে. দেখুন: টেন্ডার, এটা বাস্তবে হল ক্রেতা ও বিক্রেতার সম্পর্ক. এটা – তার সমস্ত রকমের মনে হওয়া স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা স্বত্ত্বেও একেবারেই খারাপ ও আধুনিক নয়, এমন সম্পর্ক. আমরা ভারতকে দিচ্ছি সর্বাধুনিক প্রযুক্তি, তার মধ্যে সামরিক ক্ষেত্রেও. খুবই আগ্রহ হবে জানতে, কোন বিশ্ব টেন্ডারের মধ্যে এত ভাল বিমানবাহী জাহাজ “বিক্রমাদিত্য”, যা এই কিছুদিনের মধ্যেই আমাদের উত্তরের সাগর থেকে বেরিয়ে ভারতের দিকে যেতে শুরু করবে, তা ভারতবর্ষ পেতে পারত? বলুন তো দেখি, কোন টেন্ডার করা হলে, বিশ্বের যে কোন দেশ ভারতকে বিমান নির্মাণের প্রযুক্তি ও সমস্ত সর্বাধুনিক জিনিষ দিত, যা আজ আমরা পেয়েছি? ঠিক এই জায়গাতেই আমাদের সম্পর্কের ভবিষ্যত নিহিত রয়েছে, আর তা কোন টেন্ডারে নয়, যাদের সংজ্ঞা খুব অস্বাভাবিক ভাবেই ফুলিয়ে দেখানো হচ্ছে. আর ধরা যাক বিশ্বের সেরা ডানাওয়ালা রকেট “ব্রামোস” উত্পাদনের বিষয়কেই, সেটা কি রকম? আর তাও জলের নীচে, ওপরে আর ভূমি থেকেও নিক্ষেপের উপযুক্ত ভাবে, আবার আগামী বছরে সেটাকে বিমানের ডানার নীচেও বসিয়ে দেওয়া হবে. টেন্ডার টেন্ডারের পথে, কিন্তু বিশ্বের কোন একটা দেশও ভারতের সঙ্গে নিজেদের সবচেয়ে মূল্যবান ও ভরসাযোগ্য বিষয় ভাগ করে নেবে না, যা তাদের কাছে রয়েছে. দেখুন, এখন “রাফালে” বিমান নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, আর সেটাও আবার প্রযুক্তি হস্তান্তর নিয়েই. আমাকে রাশিয়া ছাড়া, আরও একটা দেশের নাম করুন, যারা ভারতকে সত্যিকারের প্রযুক্তি হস্তান্তর করছে! সেই রকমের কোন দেশ নেই. আর তাতেই আমাদের ভারতের সঙ্গে সামরিক প্রযুক্তি বিষয়ে সহযোগীতার নীতিগত ভাবে পার্থক্য নিহিত রয়েছে, বাকী কিছু দেশের সঙ্গে সহযোগীতার তুলনায়.

আমরা ভারতকে চাই শক্তিশালী, উন্নতিশীল, ক্ষমতাধর, আর তার মধ্যে সামরিক ক্ষেত্রেও এক রাষ্ট্র হিসাবে. আর এর জন্যই গত পঞ্চাশ বছর ধরে আমরা তাই করেছি, যা আমাদের ক্ষমতায় ছিল, এখনও করছি, আর ভবিষ্যতের দিকে একসঙ্গে ভরসাযোগ্য ভাবেই এগিয়ে যাবো.

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিশ্লেষণ করে, আসন্ন সময়ে তার উন্নতির ধারা ও সম্ভাবনা দেখা হলে, আপনার মূল্যায়ন অনুযায়ী কোন দিক গুলিতে বাস্তবে সফল হওয়া সম্ভব এমন প্রাথমিক দিক রয়েছে?

রাষ্ট্রদূত কাদাকিন বলেছেন:

প্রথমতঃ, - অসামরিক পারমাণবিক শক্তি ক্ষেত্রে উন্নয়ন. ভারতীয় বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, এমনকি যদি ২০৩০ সালে ভারত সমস্ত বিশ্বে উত্পাদিত খনিজ তেল কিনতেও পারে, তবুও এটা তাদের অগ্রগতি ও স্থায়ী ভাবে উন্নতিশীল বিকাশের জন্য যথেষ্ট হবে না. পারমাণবিক শক্তি, যা সেই প্রধানমন্ত্রী নেহরু ভিত্তি হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন, ভারতের জন্যই অত্যন্ত প্রয়োজন. সমস্ত চিন্তাশীল ভারতীয় এটা খুব ভাল করেই বুঝতে পারেন. সুখের কথা হল যে, আমরা বাকী সমস্ত প্রতিযোগীদের চেয়ে অনেক আগে রয়েছি. প্রথম রিয়্যাক্টর ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে. আমাদের শান্তিপূর্ণ পরমাণু ক্ষেত্রে সহযোগিতার দিক নির্দেশ, যা স্বাক্ষরিত হয়েছে, তা আলোচ্যের মধ্যেই রয়েছে, আর আমরা তা নিয়ে কাজ করা চালিয়ে যাবো, যতই সমস্যার সৃষ্টি হোক, যার মধ্যে ভারতের নেওয়া নতুন আইন যাতে আনুমানিক ভাবে সম্ভাব্য বিপদের জন্য নাগরিক দায়িত্বের বিষয়টিও রয়েছে. আমরা তাই করছি, কারণ দিক নির্দেশে পারমাণবিক এনার্জী ব্লক তৈরী করার কথা রয়েছে ১৬টি পর্যন্ত.

সম্পূর্ণ পড়তে হলে: http://bengali.ruvr.ru/2013_08_15/kadakin-interview-swadhinata/

Popular articles

13 October 2011

NPP Kudankulam constructed in india meets...

    NPP Kudankulam, which is being constructed in India with Russian assistance, meets all international safety requirements and the people of Tamil Nadu...
19 August 2011

IAF's Sukhoi jets to be upgraded to fifth...

     India's air superiority Sukhoi-30MKI fighters will soon be converted into 'Super Sukhois' by upgrading them with fifth generation combat jet...
08 August 2011

Kudankulam gets Uranium for next 5 years

       The Kudankulam Nuclear Plant has received uranium fuel bundles from Russia for the next five years as the plant needs 25-30 tonnes of fuel per year...
Emergency phone number only for the citizens of Russia in emergency in India +91-81-3030-0551
Address:
Shantipath, Chanakyapuri,
New Delhi - 110021
Telephones:
(91-11) 2611-0640/41/42;
(91-11) 2687 38 02;
(91-11) 2687 37 99
E-mail:
This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.
This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.